সর্বশেষ সংবাদ

কেশবপুরে প্রতিদিন বসে খাঁটি গরুর দুধের হাট : ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে প্রতিদিন সকালে বসে খাঁটি গরুর দুধের হাট। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারী-পুরুষ মিলে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ গরুর খামার থেকে দুধ সংগ্রহ করে কেশবপুর শহরের পুরনো গরুহাটায় খাঁটি দুধের বাজারে বিক্রয় করে। প্রতি কেজি গরুর দুধ বিক্রি হয় ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা দরে। খাঁটি দুধের এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষণীয়। উপজেলা একটি বাড়ি একটি খামার অফিস সূত্রে জানাগেছে উপজেলায় প্রায় ৬শ টি গরুর খামার রয়েছে।

এছাড়া অধিকাংশ বাড়িতেই ২/৩টি করে গরু পালন করা হয়। ফলে দুধের বিশাল ঘাটতি পূরণে সহায়তা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে কেশবপুর উপজেলার এ দুধ প্রতিদিন পাইকারীভাবে ক্রয়করে দুধ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন শহরেও। কিন্তু হাত ও দল বদল হলে শহরে গিয়ে দুধ আর ততটা খাঁটি থাকেনা। তাই মফস্বলের এ হাটগুলোই হচ্ছে খাঁটি দুধের হাট। দুধের হাটে গিয়ে দেখা যায়, বোতল কিংবা জগে ভর্তি দুধ সাজিয়ে বসে আছেন অনেকে। ক্রেতারা এসে পরিমাণমতো দুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। দুধ ক্রেতা জামির হোসেন দুধ কিনতে এসেছিলেন। তিনি জানান, নাতির জন্য প্রতিদিন দুধ লাগে। দাম একটু বেশি হলেও ভেজালমুক্ত দুধ পাওয়া যায় এই হাঁটে। দুধ ব্যাবসায়ী আব্দুল জলিল, দুলাল, মমিন, রোকেয়া ও রফিকুল জানান, আগে আমরা ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী ৪০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করে দিতাম। এখন আমরা এই হাঁটে খুচরা দুধ বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন হোটেলে পাইকারি দরে দুধ বিক্রয় করে থাকি। তাছাড়া ব্রাকের গাড়ি এসেও আমাদের কাছ থেকে দুধ নিয়ে যাওয়াসহ মাখন তৈরির কাজেও ক্রেতারা দুধ ক্রয় করে থাকে ও হোটেল মালিকরা দুধ দিয়ে দই, রসগোল্লা, সন্দেশসহ বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি তৈরি করে থাকে।

এদিকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছোট খাটো ব্যাবসায়ীরা দুধ ক্রয় করে এই হাঁটে এনে বিক্রয় করে। ফুলজান বিবি জানান আমার ২টি গাভী গরু রয়েছে। প্রতিদিন ২/৩ কেজি দুধ দেয় গরু গুলি। দুধ বিক্রির টাকায় আমি আগামীতে আরো একটি গরু কিনবো। সালমা বেগম জানান গরুর দুধ বিক্রির টাকায় আমি জমি ক্রয় করেছি। প্রতিদিন ব্যাবসায়ীরা আমার বাড়ি থেকে দুধ ক্রয় করে নিয়ে যায়।

কেশবপুর পৌরসভার সেনেটারী অফিসার অসিত ঘোষ জানান, পৌরসভা থেকে প্রায়দিন দুধের হাঁটে দুধ পরীক্ষা করা হয়। আগে কিছু ভেজাল পাওয়া গেলেও এখন আর ভেজাল পাওয়া যায়না। এখন ব্যবসায়ীরা খাঁটি দুধ বিক্রয় করে থাকে। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, প্রতিটি মানুষেরই দুধ পান করা প্রয়োজন। দুধে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই।

error: লাল সবুজের কথা !!