কেশবপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু এলাকায় নানা গুঞ্জন

23
কেশবপুর
কেশবপুর

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নাজির হোসেন বিশ্বাস (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এদিকে মামলার প্রধান আসামী মাহাবুর রহমান মোড়ল ওই দিন থেকে আত্ম গোপনে রয়েছে। এ ঘটনায় নাজির হোসেন বিশ্বাসের স্ত্রী মোছা: খাদিজা বেগম বাদি হয়ে মাহাবুর রহমানসহ অজ্ঞাত ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর একটি মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং: ০৭, তারিখ: ১৯/০৮/২০১৮। মামলা সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের মৃত রাজ্জাক মোড়লের ছেলে মাহাবুর রহমান (২৮) এর সাথে নাজির হোসেন বিশ্বাসের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল।

নাজির হোসেন বিশ্বাসের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। অপর দিকে নিহত নাজির হোসেন বিশ্বাসের ভাই আবুল হোসেন বিশ্বাস, আবুল কাশেম বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন বিশ্বাস সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, মামলার প্রধান আসামী মাহাবুর রহমান মোড়লের ভাই দুবাই প্রবাসী আবুল হাসেমের সাথে নাজির হোসেন বিশ্বাসের সঙ্গে গভীর ভাবে বন্ধুত্ব সম্বর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জের ধরে প্রায় সময় আবুল হাসেম তার বাড়িতে আসতেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার পিতা খোদা বক্সের উপর আমার ভাইপো চড়াও হয়ে উঠেন। সেই থেকে তারা পৌত্রিক ভিটা ছেড়ে ৩০০ গজ দূরে বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। তারা আরও বলেন আমার ভাই নাজির হোসেন বিশ্বাসের হত্যার প্রধান আসামী মাহাবুর রহমান মোড়লকে আটক করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। নিহত নাজির হোসেন বিশ্বাসের পিতা খোদা বক্স ও তার মা খায়রুন নেছা বলেন, এই ঘটনা ঘটার পর থেকে আসামীর মা আমার বৌর বাড়িতে এসে ছিলেন। আমরা আমার ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে দ্রুত মাহাবুরকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

তারই জের ধরে গত ১৬/০৮/২০১৮ তারিখে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নাজির হোসেন বিশ্বাস বাড়ি সংলগ্ন পিছনে কাঁচা রাস্তার উপর আসা মাত্রই মাহাবুর রহমান মোড়লসহ অজ্ঞাত ৬/৭ আসামীরা মিলে হকিষ্টিক, ধারালো চাইনিজ কুড়াল ও রাম দা দিয়ে নাজির হোসেন বিশ্বাসকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় মামলার স্বাক্ষীদের মাধ্যমে নাজির হোসেন বিশ্বাসের স্ত্রী মোছা: খাদিজা বেগম ঘটনাস্থলে যেয়ে নাজির হোসেন বিশ্বাসকে উদ্ধার করে প্রথমে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। ওই রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় আবারও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে চিকিৎসা থাকা অবস্থায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে নিহত নাজির হোসেন বিশ্বাসের ছেলে ইকরামুল কবীরের কাছে জানতে চাইলে সে সাংবাদিকদের জানান, আমার পিতা নাজির হোসেন বিশ্বাসের সঙ্গে দোবায় প্রবাসী আবুল হোসেনের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। বন্ধুত্ব থাকা কালীন আবুল হোসেন দোব্য়া যাওয়ার জন্য আমার পিতার নিকট থেকে আবুল হাসেমকে নগদ ৭০ হাজার টাকা দেন আমার পিতা। সে দোবায় থাকা কালীন প্রায় আমাদের সঙ্গে মোবাইলে কথা হত। তার কাছে নাজির হোসেনকে কুপিয়ে রক্তাক্তের ঘটনা জানতে চাইলে সে জানান, আমার পিতাকে কোন কারণে হত্যা করা হয়েছে সেটা আমরা সঠিক জানিনা। এই মামলার প্রধান আসামী মাহাবুর রহমান আটক হওয়ার পর জানাযাবে আমার পিতার হত্যার আসল রহস্য কি। এ ব্যাপারে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা কেশবপুর থানার এস আই মেহেদী হাসান বলেন, নাজির হোসেন বিশ্বাসের স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে মামলা তদন্ত চলছে। আসামী গ্রেফতার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।