কেশবপুরে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের কাজে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের কাজে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিনমজুর পরিবারটিতে চলছে এখনও শোকের মাতম।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের দিনমজুর কছির মোড়লের ছেলে রিপন হোসেন (১৮) অভাবের তাড়নায় পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সামিতি- ২ এর খুটি পোতার কাজে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়। দিনমজুর পরিবারটি তার চিকিৎসায় প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। ঘটনাটি এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও পরিবারটি সাব ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরন পায়নি।

জানা গেছে, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সামিতি- ২ এর লাইন সম্প্রসারণের কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এফ এন্টারপ্রাইজ। এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি বাগিয়ে নেয় কেশবপুর উপজেলার টিটাবাজিতপুর গ্রামের মৃত রশিদ সরদারের ছেলে সাব ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর। এ সময় তিনি এ কাজের শ্রমিক হিসেবে সাগরদাঁড়ি গ্রামের দিনমজুর কছির মোড়লের একমাত্র ছেলে রিপন হোসেনকে শ্রমিক হিসেবে কাজ দেয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর রিপন হোসেন এ কাজে গিয়ে গাছের ডাল কাটার সময় অসাবধানতা বশত: গাছ থেকে পড়ে ঘাড়ের মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে মারাতœক আহত হয়।

এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল হসপাতালে ভর্তি করে। দু’দিন পর ওই হাসপাতাল থেকে তাকে রেফার করা হয় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। কিন্তু তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ডাক্তাররা চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করে। ফলে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে বাড়ি আনা হয়। প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। ওই দিনই তাকে পারিপারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। রিপন হেসেন দীর্ঘ ১১ দিন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়লেও সাব ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর কোন দিন তার দিকে ফিরেও তাকাননি। দিনমজুর ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অকাল মৃত্যুতে পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।

মঙ্গলবার সরেজমিনে রিপনের বাড়িতে গেলে তার বাবা কছির মোড়ল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, তার বাস্তভিটা ৩ শতক জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। স্ত্রী নাছিমা ছেলে রিপন হোসেন ও ৭ বছরের মেয়ে মিতুকে নিয়ে ছিল তার সংসার। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অভাবের তাড়নায় তার ছেলে যায় পল্লী বিদ্যুতের কাজে। ছেলে হারানোর শোকে তার মা স্তব্ধ হয়ে গেছে। ধার, দেনা ও সুদে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি। সাব ঠিকাদার বলেছে, থানায় অভিযোগ করলে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করবে। তাই তিনি কোথাও অভিযোগ করেননি। সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত বলেন, ওই পরিবারটি খুবই গরীব দিনমুজুর। রিপন হোসেন পল্লী বিদ্যুতের সাব ঠিকাদার হুমায়ুন কবীরের অধীনে কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাজ্ঞা লড়ে অবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর মারা গেল। শুনেছি ওই ঠিকাদার কিছু টাকা দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে।

এ ব্যাপারে সাব ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর বলেন, আমি এক ঠিাকাদারের কাছ থেকে একাজটি কিনে নিয়েছি। ওই ছেলেটি আমার অধীনে কাজ করছিল তাও আমি জানি না। গত ১২ সেপ্টেম্বর রিপন হোসেন এ কাজে গিয়ে গাছের ডাল কাটার সময় অসাবধানতা বশত: গাছ থেকে পড়ে মারা গেছে। আমি ওই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে কিছু টাকা দিয়েছি। প্রয়োজনে যতদূর পারি তাদের আরও সহযোগিতা করবো। আর যদি মামলা করে তার ছেলের লাশ কবর থেকে উঠাতে চায়, তাতে আমার কোন সমস্যা হবে না। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: লাল সবুজের কথা !!