কেশবপুরে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি ॥ আহত -৪

8
কেশবপুরে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি ॥ আহত -৪

আজিজুর রহমান, কেশবপুর থেকে: কেশবপুরে ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চাল, মাঠের ফসল, কাঁচা ঘরবাড়িসহ গাছপালা লন্ডভন্ড হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছে প্রায় ৪ জন। আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন শিক্ষক মাওলানা আব্দুল রাজ্জাক (৪৫), শিক্ষার্থী তামান্না খাতুন (১৩) রিয়া খাতুন (১৪), রাকিবুল (১২)। শিক্ষক মাওলানা আব্দুল রাজ্জাক জানান, মাদরাসার পাশে একটি নারকেল গাছে মঙ্গলবার সকালে আচমকা বজ্রপাত আঘাত হানলে আমরা আহত হই।

মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড়ের আক্রমণে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কম-বেশী ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে মুসুরি চাষীদের প্রায় ১৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি, আম চাষীদের ৫২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি, গম চাষীদের ২২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার ক্ষতিসহ প্রায় ২০ হাজার টাকার শাঁক সবজির ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা বনবিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাগরদাঁড়ি সড়কের ১০/১২ টি গাছ উপড়ে পড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ২০/২৫ টি গাছের ডালপালা ভেঙ্গে প্রায় ৮ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়।

এছাড়া প্রতাপপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনের চাল, দেউলী আলীম মাদ্রাসার টিনের চাল, হাসানপুর দাখিল মাদ্রাসা, বুড়িহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোপসেনা গ্রামের একটি রাইস মিল কারখানার টিনের চাল প্রায় ৭/৮ শত কৃষকের ফসলের ক্ষয় ক্ষতি হয়। মধ্যকুল গ্রামের টেক্কা খান, শামিম খান, কালিয়ারই গ্রামের ফরিদা বেগমসহ অনেকেই জানান, ঝড়ে আমাদের কাঁচা ঘর বাড়ি ভেঙ্গে পড়াসহ ঘরের চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। এছাড়া আমাদের আমাদের জমিতে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙ্গে হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আক্রমণে মুসুরি, গম, আমের মুকুল, শাক-সবজিসহ শিলাবৃষ্টির কারণে মাঠের বিভিন্ন ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ এসে দাড়িয়েছে প্রায় ৮৮ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।