কেশবপুরে কৃষকরা কোমর বেঁধে নেমেছে বোরো আবাদে

খরচ কমাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে

10
কেশবপুরে কৃষকরা কোমর বেঁধে নেমেছে বোরো আবাদে

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরে কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বোরো চাষ আবাদে। খরচ কমাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে নেমে পড়েছে সহযোগিতার জন্য। কৃষকেরা সনাতন পদ্ধতির লাঙ্গল গরুর পাশাপাশি পাওয়ার ট্রিলার ও ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে ঘন কুয়াশা ও শীত উপেক্ষা করে ইতিমধ্যে অনেক কৃষকরা বোরো আবাদ রোপনের কাজ শেষ করে ফেলেছেন।

কৃষকরা সময়মত সার ও বীজ ক্ষেতে প্রয়োগ করতে পারায় ধানের চারা সবুজ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। ডিজেল ও বিদ্যুতের সরবরাহ রয়েছে কৃষকের চাহিদা মত। সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আবু বক্কার সিদ্দিক, রজব আলী সরদার, হামিদ সরদার ও শমসের মাল জানান, এবছর বন্যা না থাকায় আমরা বোরো আবাদ চাষে লাভবান হওয়ার আশা করছি। ব্রহ্মকাটি গ্রামের তারিফ মোড়ল, ইসলাম গাজী, কামরুজ্জামান, হাকিম সরদার, ইউনুস আলী সরদার, রামচন্দ্রপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আয়ূব আলী, সাজ্জাত হোসেনসহ অনেক কৃষকরা জানান, এবছর বন্যা না থাকায় আমাদের বোরো আবাদের ফসল ভালো হবে।

যদি ধান কাটার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে আমরা সময়মত ধান ঘরে তুলতে পারবো। শ্রমিকদের শ্রমের দাম বেশী হলেও বোরো আবাদ ধান চাষে আমরা আনন্দ পাচ্ছি। ধানের চারার সবুজ বর্ণ চেহারা দেখে আমরা খুব আনন্দিত। আশা করি এবার আমরা অনেক লাভবান হবো। বিঘাপ্রতি ৩০/৩৫ মণ ধান আমরা ঘরে তুলতে পারবো। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ উপজেলায় বোরো আবাদে রোপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা বোরো আবাদে ঝুঁকে পড়েছে। কেশবপুরে কয়েক বছর ধরে বন্যায় হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চারা লাগানো থেকে ধান কাটা পর্যন্ত যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে।