কেশবপুরে এক নববধুকে হত্যা, লাশ ঝুলিয়ে রেখে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহত্যা এলাকায় প্রচার

88

মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি। বাড়ি ছেড়ে অন্যথায় জীবন যাপন

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে এক নব বধুকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আতœহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচার চালিয়েছিল হত্যাকারিরা। থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছিলেন । এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। নববধুকে হত্যার ঘটনায় মেয়ের পিতা বুধো দাস বাদী হয়ে যশোর বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিঃ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৪১/১৭ । মামলা তদন্তের জন্য কেশবপুর থানা ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার কারণে বাড়ি ছেড়ে অন্যথায় জীবন যাপন করছে বাদীসহ তার পরিবার। মামলা সুত্রে জানা গেছে উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের নিতাই দাসের ছেলে শ্রী বাস দাস (২৩) এর সাথে একই উপজেলার মুলগ্রামের বুধো দাসের মেয়ে সুমতি দাস(১৮) সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই তাদের বিবাহ সম্পুর্ণ হয়েছিল।

বিয়ের সময় সুুমতির সুখের জন্য তার স্বামীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা সহ বাড়ী বিভিন্ন মালামাল দেওয়া হয় । বুধো দাস সাংবাদিকদের জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য তার স্বামী প্রায় সময় বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন চালাত। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আমার মেয়ে সুমতি দাস আমার বাড়িতে চলে আসে। এরপর মেয়ের সুখের জন্য জামাইকে নগদ টাকা দেওয়া হয় এবং আমার মেয়েকে আর নির্যাতন করবে না বলে আপষ মিমাংসা হয় । তারপরেও থেমে থাকেনি আমার মেয়ের উপর নির্যাতন। আবারও ১ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি এনে আমার মেয়েকে ধারাবাহিক ভাবে অমানুষিক শারিরিক নির্যাতন করত । যৌতুকের টাকা নেওয়ার পরেও আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন চালানোর পর তাকে আতœহত্যা করতে বাধ্য করেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারী রাত ৮ টার দিকে আমার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার চেষ্ঠা করে এবং মেয়েকে বিষ ও গলায় দড়ি দিয়ে আতœহত্যা করার জন্যে চাপ সৃষ্টি করে ছিলেন আসামীরা। এরপর গভীর রাতে আামার মেয়েকে হত্যা করে তার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে এলাকায় আতœহত্যা করেছে বলে প্রচার চালিয়েছিল। মেয়ের লাশ ঘরে থাকা অবস্থায় আমার জামাই সহ পরিবাবের লোকজন গা ঢাকা দিয়েছিলেন। এরপর আসামীরা হাসপাতাল থেকে লাশ এনে আমার পরিবারকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমার মেয়ের লাশ পুড়াইয়া ফেলে ।এই সময় আমি লাশ পুড়াতে নিষেধ করলে তারা আমাকে ভয় ভীতি ও হুমকি দিয়ে সাদা কাগজে জোর পুর্বক স্বাক্ষর করে নেয়। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী দাস বাদী হয়ে যশোর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। যার মামলা নং ৩৩/১৭। মামলা করার পর থেকে আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্যে বিভিন্ন সময় বাদীর পরিবারকে হুমকি দিত। তাদের হুমকির প্রাণের ভয়ে আমার স্ত্রী ঐ মামলাটি নিষ্পত্তি করতে আসামিরা বাদিকে বাধ্য করার কারনে মামলাটি নিষ্পত্তি করেছিলেন। এরপর আমি আদালতে আবারও আমার মেয়ে হত্যা করার কারণে আসামীদের বিরদ্ধে মামলা করায় আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্যে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করত। আসামীদের ভয়ে আমার পরিবারকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অভয়নগর বাঘারপাড়ায় নারকেলবাড়িয়া গ্রামে জীবন যাপন করছি। আমার মেয়ের হত্যার সঠিক বিচারের জন্যে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্যে শ্রী বাস দাসের মুঠোফোনে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে মামলা তদন্তকারী কেশবপুর থানার এস আই প্রসনজিৎ বলেন বুধো দাস বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।