কেশবপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ার টেকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম

191

দূর্নীতির ও লাখ লাখ আত্মসাতের অভিযোগ

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
কেশবপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্ব প্রাপ্ত মডেল কেয়ার টেকার রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তিদের নিটক থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের পরিচালক ও উপ-পরিচালকের নিকট পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩ জুলাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর অঞ্চলের উপ পরিচালক স্বাক্ষরিত এক পত্রে এসব অভিযোগ উলে¬খ করে অভিযুক্ত মডেল কেয়ারটেকারকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কেশবপুর উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামের রুহুল আমিন হিরন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেশবপুর শাখার মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে কেশবপুর অফিসের মডেল কেয়ার টেকার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত রয়েছেন। নাম মাত্র মডেল কেয়ার টেকার হয়ে তিনি একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ২০১৬ সালে হাফেজ ফারুক হোসেনকে চাকরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছে ১ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। চাকরী পাবার পর হাফেজ ফারুক হোসেন টাকা দিতে ব্যর্থ হলে ওই মডেল কেয়ার টেকার তার বাড়ি থেকে গরু ধরে নিয়ে বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকাসহ নগদ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে আত্নসাৎ করেন। এছাড়াও ল্যাপটপ কেনার কথা বলে তার ২ মাসের বেতন জোর পূর্বক হাতিয়ে নেন। এরপরও তাকে নারী বিষয়ক বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাতে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন। ২০১৮ সালে তিনি রুমিয়া খাতুনের কাছ থেকে দু‘দফায় নগদ ১৬ হাজার ২‘শ টাকা গ্রহণ করে আরও টাকা না দেয়ায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করাসহ চাকরী থেকে বহিষ্কারের হমকি দেন, যা অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মউশিকের ছাত্রদের ডাটাবেজ তিনি কুক্ষিগত করে রাখেন। যার কারণে যথা সময়ে ১৪২ জন শিক্ষকের ডাটাবেজ না হওয়ায় তাদের বেতন ভাতা প্রদানে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে। উক্ত টাকা জমা দেয়ার জন্যে এ কর্মসূচীর ডিডি ও ফিল্ড অফিসার ওই মডেল কেয়ার টেকারকে ২ মাসের সময় দিলেও তা জমা না দিয়ে তিনি চরম ঊদ্ধত্ত্যপনা দেখিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জেলা অফিস থেকে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন ফর্ম নিয়ে টাকার বিনিময়ে বিক্রির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষিকা পিয়া খাতুনের কাছ থেকে কেন্দ্র দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। অবশিষ্ট টাকার জন্যে তিনি ওই শিক্ষিকার ওপর চাপ অব্যাহত রেখে চলেছেন। চাকরী দেয়ার নামে তিনি সন্ন্যাসগাছা গ্রামের মুফতি আব্দুস সাত্তার, মাওলানা মাহমুদ মোস্তফা ও মাওলানা আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে চাকরী দিতে ব্যর্থ হন বলে তারা আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

তিনি ফিল্ড সুপারভাইজারের বিদায় অনুষ্ঠানের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা আদায় করে আত্নসাৎ করেন। ২০১৭ সালে রেভিনিউ স্ট্যাম্প কেনার কথা বলে ১৭ হাজার ৬০ টাকা আদায় করেন। তিনি তৎকালিন ফিল্ড সুপারভাইজার মাসুদুজ্জামানের কাছ থেকে কৌশলে ৬৭ হাজার ৫‘শ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আতœসাৎ করেন। এ ধরনের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহুবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি সমান তালে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে চলেছেন। যা ক্রমেই আর্থিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগের ভিত্তিতে কেন দুর্নীতিবাজ মডেল কেয়ার টেকার রুহুল আমিন হিরনের বিরুদ্ধে অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির তিন কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব প্রদানের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মইন ও ফিল্ড অফিসার মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। যার স্মারক নং-১৬.০১.৪১০০.০২২.০১.০০১.১৬.১৫৩ (৫) , তাং-২৩-০৭-১৮।

অফিসের একটি সূত্র জানায়, এ কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়ে তিনি মোটা অংকের মিশন নিয়ে ঊধ্বর্তন কর্তাদের ম্যানেজ করতে দৌঁড় ঝাপ শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে রুহুল আমিন হিরন কাছে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট একটি মহল আমাকে ফাসাতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।