কেশবপুরে আবারো বাদুড় শিকারীদের দৌরাত্ব

112

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে আবারো বাদুড় শিকারীদের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। হরিহর নদ পারের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কালীতলা নামক স্থানের বট গাছে যুগ যুগ ধরে হাজার হাজার বাদুড় দিনের বেলা ঝুলে থাকত। ফাঁদ পেতে বাদুড় ধরে মাংস খাওয়ার কারণে বালিয়াডাঙ্গার বট গাছ ছেড়ে বাদুড় অন্যত্র চলে যায়। সম্প্রতি ওই বট গ্রামে বাদুড় ফিরতে শুরু করায় শিকারীরাও ফাঁদ পেতে বাদুড় শিকার শুরু হরেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এক সময়ের বাদুড়ের গ্রাম হিসেবে পরিচিত কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা এখন আর আগের মতো বাদুড় দেখা যায় না। ফাঁদ পেতে বাদুড় ধরে মাংস খাওয়ার কারণে বালিয়াডাঙ্গা এখন প্রায় বাদুড় শূন্য হয়ে পড়ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। যুগ যুগ ধরে হরিহর নদের পারের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কালীতলা নামক স্থানের বট গাছে হাজার হাজার বাদুড় দিনের বেলা ঝুলে কিচির মিচির ডাকে এলাকা মুখরিত করে তুলতো। শুধু ওই গ্রামের বট গাছটিতে নয়, অন্য উঁচু গাছ গুলোতেও বাদুড়ের আবাস ছিল। দেখে মনে হতো বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মানুষ সযতেœ বাদুড় লালন পালন করছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু লোক ফাঁদ পেতে বাদুড় ধরার কারণে বাদুড় চলে যেতে শুরু করে। সম্প্রতি ওই বট গাছে কিছু কিছু বাদুড় ফিরে আসায় আবারো শিকারীরা অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের পরিচিত সেই বট গাছে দু’একটি করে বাদুড় ফিরতে শুরু করেছে। বাদুড় সম্পর্কে এলাকাবাসীকে প্রশ্ন করা হলে তারাও হতবাক হয়। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র সাহা (৭০) জানান, তিনি ছোট বেলা থেকে কালীতলা বট গাছে হাজার হাজার বাদুড় দেখে আসেছেন। সন্ধ্যার আগে যখন বাদুড় আহার সংগ্রহের জন্য উড়তে শুরু করত তখন কেশবপুর সদরসহ বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আকাশে বাদুড় ছেয়ে যেত। বেশ কয়েক বছর আগে থেকে মাংসলোভী এক শ্রেণির অসাধু মানুষের অত্যাচারের কারণে এলাকা থেকে বাদুড় চলে যায়। এলাকাবাসী জানায়, বাদুরের মাংস সুস্বাদু হওয়ায় এক শ্রেণির মানুষ রাতে বট গাছের আশ-পাশে উঁচু গাছে জাল দিয়ে ফাঁদ পেতে আবারো বাদুর শিকার শুরু করেছে। এলাকাবাসীর এমন অভিযোগে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বালিয়াডাঙ্গা শ্মশানের পাশে একটি উঁচু মেহগনি গাছে বাদুর শিকারীরা বাঁশ বেঁধে সুতা নদের অপর পাশে নিয়ে গেছে। রাতে ওই সুতার সাথে জাল ঝুলিয়ে ফাঁদ পেতে বাদুড় শিকার করা হয়। কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বাদুড় সাধারণত থাকার স্থান পরিবর্তন করে না। তবে মানুষ যদি অত্যাচার শুরু করে তাহলে ওরা বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যায়। তাছাড়াও যে এলকায় বৈদ্যতিক তার বেশি রয়েছে-ওই এলাকা থেকেও বাদুর চলে যায়। ফাঁদ পেতে বাদুড় ধরার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তার পরও যদি কেউ ফাঁদ পেতে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে বন্য প্রাণী ব্যবপস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার গবেষক ফারহানা রহমান বলেন, বন্যা প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সালের ৩৪ (খ) ধারায় কোন বন্য প্রাণী ধরা মারা ও খাওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। বাদুড় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। তাছাড়া বিভিন্ন বৃক্ষ পরায়গণে বাদুড় সহয়াতা করে বলে প্রাকৃতিক সৌন্দয্যও বৃদ্ধি পায়।