কেশবপুরে আত্মহত্যার প্ররোচনায় বাধ্য করার অভিযোগে ইউপি সদস্য আটক

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরে অন্তসত্তা: স্ত্রীকে আতœহত্যার প্ররোচনায় বাধ্য করার অভিযোগে পুলিশ এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে। রবিবার সকালে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় নিহত তানিয়ার ভাই হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনায় বাধ্য করার অভিযোগে জহির রায়হানকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেছেন। যার মামলা নং-১০, তারিখ-১৪/৭/১৯।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য, মঙ্গলকোট গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ মোড়লের ছেলে ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য জহির রায়হানের ১ম পক্ষের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। এরপরও সে স্ত্রীকে না জানিয়ে ২০১৭ সালে উপজেলার কায়েমখোলা গ্রামের কুদ্দুস গাজীর মেয়ে তানিয়া খাতুনকে বিয়ে করে। এরপর থেকে ওই সংসারে প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত।

এরই মধ্যে তানিয়া খাতুন ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা: হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই রাতে পারিবারিক কলোহের জের ধরে তানিয়া খাতুন বিষপান করেন বলে অভিযোগ। ওই রাতেই তাকে কেশবপুর হাসপাতালে আনা হলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। শেষ রাতে খুলনায় নেয়ার পথে যশোর সাতক্ষীরা সড়কের কেদারপুর নামক স্থানে পৌঁছলে তার মৃত্যু হয়। ১৪ জুলাই ভোরে উপায়ান্তর না পেয়ে ইউপি সদস্য জহির রায়হান প্রাইভেট কার ভাড়া করে মৃত তানিয়ার লাশ তার পিতার বাড়ি কায়েমখোলা গ্রামে নিয়ে হাজির হয়। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী জহির রায়হানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শারীরিক নির্যাতনের ফলে তার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এখন ঘটনা ধামাচাপা দিতে গালে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কেশবপুর থানার ওসি মো. শাহিন বলেন, তানিয়া খাতুন নিহতের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে লাশ ময়না তদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আতœহত্যার প্ররোচনায় বাধ্য করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটক জহির রায়হানকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

error: লাল সবুজের কথা !!