কেশবপুরে অপরের স্ত্রীকে ভাল বেসে বিয়ে পিটিয়ে যুবককে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর ওই যুবককে হুমকী

47
কেশবপুর

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে এক যুবক অপরের স্ত্রীকে ভাল বেসে বিয়ে করার অপরাধে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর পূর্বের স্বামী ওই যুবককে পিটিয়ে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ওই যুবককে প্রকাশ্যে হুমকী দেওয়া হয়েছে বলে আব্দুল্লাহ আহাদ জানান। আব্দুল্লাহ আহাদকে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রবিবার সকালে কাশিয়ানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আহাদ এখন ওই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এদিকে থানায় অভিযোগ না করার জন্য আব্দুল্লাহ আহাদের পরিবারকে মোবাইল ফোনসহ প্রকাশ্যে হুমকী দিচ্ছে কামরুল সরদার। সে কোন সময় আহত পরিবারকে বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে বলে তার পরিবার ভয়ে ভয়ে দিনাতিপাত করছে।

উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি পিংগুলিয়া ভাটাপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা উকিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আহাদ (৩০) সাংবাদিকদের জানান, আমি উপজেলার বাউশলা গ্রামে মামা সামাদ সরদারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। আমি গত কয়েক মাস আগে কাজের সন্ধানে উপজেলা লালপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ সরদারের ছেলে কামরুল সরদারের সঙ্গে আমি খুলনা গল্লা মারিতে রিক্সা চালাতাম। এর কিছুদিন পর সাতক্ষীরা জেলার হরীদাসপুর গ্রামের বাহার আলী সরদারের মেয়ে মুক্তা বেগম (২৪) এর সাথে কামরুল সরদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের স্বামী-স্ত্রী সাথে আমার গভীর সম্পর্ক গোড়ে উঠে। সেই থেকে দুজন দুজনকে ভালবেসে ফেলি। এভাবে চলতে থাকে আমাদের ফোন আলাপ।

এর কিছুদিন পর মুক্তা বেগম আমাকে মুঠোফোনে বলেন আমাকে বিবাহ করতে হবে। তার কথা মতো আমি মুক্তা বেগমকে বিবাহ করি। এইভাবে চলতে থাকে আমাদের সংসার। তার কিছুদিন পর আমি ও আমার স্ত্রী মুক্তা বেগম গোপালগঞ্জে পিতার বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে বাউশলা গ্রামে মামা সামাদের বাড়িতে আমি ও আমার স্ত্রী আসার সাথে সাথে কামরুল আমাকে মুঠোফোনে ডাকেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে ওইদিন বিকালে মঙ্গলকোট বাজারে আসা মাত্রই কামরুল সরদার মুক্তা বেগম, তার মা আলজিরা বেগম, লালপুর গ্রামের ভ্যান চালক আরশাদ আলি সরদার বাউশলা গ্রামের সামাদ সরদার মিলে আমাকে পিটিয়ে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায়। দ্রুত বাজারের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। আব্দুল্লাহ আহাদের পরিবার তাদের ভয়ে দপ্তরে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না। এই ব্যাপারে কামরুল সরদারের মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বারবার ফোন দেওয়া হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।