কেশবপুরে অপমান সইতে না পেরে চা বিক্রেতা রেখা রানীর আত্মহত্যা

45

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুরে প্রতিবেশীর মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রেখা মন্ডল নামের এক চা বিক্রেতা গলায় উড়না দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিথ্যে অপবাদ দিয়ে গালিগালাজ করায় সোমবার সকালে উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের আড়ুয়া গ্রামের অসিম মন্ডলের স্ত্রী রেখা আত্নহত্যা করেন।এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছে।

এলাকাবাসি ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছর ধরে আড়ুয়া গ্রামের গ্রাম্য পুলিশ অসিম মন্ডলের স্ত্রী রেখা মন্ডল (৩৫) তার বাড়ির পাশে মানিকতলা মোড়ে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাপলা খাতুন বলেন, তার এলাকার শ্যমল বৈরাগী অধিকাংশ সময় ওই দোকানে বসে চা পান করত। বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেনি শ্যামলের স্ত্রী নমিতা বৈরাগী ও ছেলে পরান বৈরাগী। এ নিয়ে প্রায় সময় রেখা মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে নমিতা বৈরাগী ও পরান বৈরাগী গালিগালাজ করত। পূর্বের ন্যায় রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে রেখা মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে মারপিটের হুমকি দেয়। এতে ক্ষোভে এক সন্তানের জননী রেখা মন্ডল বাড়ির ঘরের আড়ার সাথে উড়না দিয়ে আত্নহত্যা করেন। ঘটনার পর শ্যামল বৈরাগী তার স্ত্রী নমিতা বৈরাগী ও ছেলে পরান বৈরাগী গা ঢাকা দিয়েছে।

রেখা মন্ডলের স্বামী অসিম মন্ডল বলেন, আমার স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য পার্শবর্তী শ্যমল বৈরাগী তার স্ত্রী নমিতা বৈরাগী ও ছেলে পরান বৈরাগী দায়ী। আমার বাড়িতে এসে তারা অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারপিট করে প্রণনাশের হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী অপমান সইতে না পেরে আত্নহত্যা করেছে। তিনি অপরাধিদের ধরে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার পুলিশের উপপরিদর্শক তাইজুর ফকির বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে যশোর জেরারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।