সর্বশেষ সংবাদ

কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

আজিজুর রহমান ,কেশবপুর :
কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ১২ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি, কেউ বা নানা কায়দায় প্রার্থীতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন ভোটারদের। নিয়মিত থানা, জেলা নেতাদের সাথে যোগাযোগসহ পথে-ঘাটে ভোটারদের আগাম সালাম বিনিময় করে চলেছেন তারা।

বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু বকর আবুর মৃত্যুর পর ওই ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষনা না হলেও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৪ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ৩ নং মজিদপুর ইউনিয়নের গত পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এ ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী একবার, বিএনপির প্রার্থী চারবার বিজয়ী হয়েছে। সর্বশেষ একটানা ২ বার বিএনপির প্রার্থী এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিহত আবু বকর আবু। সরেজমিন উপজেলার এ ইউনিয়নটি ঘুরে বিভিন্ন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের প্রার্থী চুড়ান্ত না হওয়ায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন। সম্ভাব্য এসব প্রার্থী নিয়ে পাড়া-মহল্লায়, চায়ের দোকানে ভোটারসহ আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কে পাবেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন।

জানা গেছে, ৩ নং মজিদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, ইউপি সদস্য, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ও শিকারপুর পাত্রপাড়া ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী গাজী গোলাম সরোয়ার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মনোজ তরফদার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল মতলেব, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম উজ্জল, ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মজিদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম। এরা সকলে মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি সাহিদুজ্জামান সাঈদ, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পলাশ ও বিএনপির সাবেক ইউপি সদস্য মিলন।

এছাড়া কেশবপুর প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি মশিয়ার রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন। এদিকে ইউপি সদস্য, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ও শিকারপুর পাত্রপাড়া ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং মুক্ত ও ডিজিটাল ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গিকার নিয়ে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সদ্য হয়ে যাওয়া সংসদ নির্বাচনে আমি নৌকার পক্ষে কাজ করেছি। গত ইউপি নির্বাচনে জনগণ আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছিলো। আমি সততার সহিত ইউপি সদস্যর দ্বায়ীত্ব পালন ও নিরলস ভাবে জনগণের সেবা করে আসছি। তাই আমি আশা করি দল এবার আমাকে মনোনয়ন দিবে। আমি আশাবাদী যদি মনোনয়ন পাই তাহলে এই উপ-নির্বাচনে আমি বিজয়ী হব। জনগণ আমাকে ভালোবাসে। আমি স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজারসহ পাড়া-মহল্লায় যেয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশার আশায় দোয়া ও আশির্বাদ চেয়ে চলেছি। এখন তফশীল ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন মজিদপুর ইউনিয়নের উপনির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে পদপ্রার্থীরা। এদিকে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যাপক গ্রুপিং-লবিং করে চলেছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন, মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর আবুর মৃত্যুর পর ওই পদটি শুণ্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। শুণ্য ঘোষণার গেজেট পাওয়ার পর তফশীল ঘোষণা করা হবে।

error: লাল সবুজের কথা !!