কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলো রাশিয়া

70

অনলাইন ডেস্ক : ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ডিল’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে এলো রাশিয়া। সোমবার ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহণের যে চুক্তি হয়েছিল আজ থেকে তা বাতিল করা হলো। খবর আরটির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- রাশিয়া চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও আবার চুক্তিতে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছে। পেসকভ বলেন, যদি রাশিয়ান ফেডারেশনের শর্তগুলো মেনে নেওয়া হয়, তবে তারা আবারো চুক্তিতে ফিরবে। এতদিন যে চুক্তি ছিল তা স্বাক্ষরকারী দেশগুলো মানেনি। 

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ইউক্রেন, তুরস্ক ও জাতিসংঘকে জানিয়ে দিয়েছে। 

এর আগে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে নিরাপদে শস্য পরিবহণের জন্য জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর অধীনে গত বছরের শেষদিক থেকে বিশ্ব বাজারে খাদ্য রপ্তানির সুযোগ পায় ইউক্রেন। চুক্তি স্বাক্ষরের একদম এক বছরের মাথায় চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। ঐতিহাসিক এ চুক্তিটি ১২০ দিনের জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

এরপর দফায় দফায় এটি নবায়ন করা হয় কিন্তু এবার আর নতুন করে চুক্তিতে থাকতে চাইছে না রাশিয়া।

চুক্তি নবায়নের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চিঠিও লিখেছিলেন কিন্তু রাশিয়ার অভিযোগ, শিপিং ও বীমার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেশটির খাদ্য ও সার রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। 

কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির আওতায় ইউক্রেন ৩২ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য রপ্তানি করছে। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন শুধু ধনী দেশগুলোকেই খাদ্য দিচ্ছে। দরিদ্র দেশগুলো এখনো খাদ্য ঝুঁকিতে ভুগছে। অথচ চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ইউক্রেন এমন দেশগুলোকে শস্য রপ্তানিতে প্রাধান্য দেবে যারা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে আছে কিন্তু এর বদলে তারা তাদের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে খাদ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে।