কুমিল্লা কান্দিরপাড় রণক্ষেত্র পরিনত

99

অাবুল কালাম,কুমিল্লা: কুমিল্লা কান্দিরপাড়ে বিএনপি কার্যালয় দখল নিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও কুমিল্লা দক্ষিন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ ইয়াসিন সমর্থিত ছাত্রদলের ২গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। রবিবার দুপুর সারে ১২টায় কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র বাণিজ্যিক এলাকা কান্দিরপাড় লিবার্টি চত্বরে দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি শুরু হলে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পরে। ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা এবং পথচারীরা অাতংকিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। ব্যবসায়ীর আতংকিত।ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং বিস্ফোরণের শব্দে মুহুর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কাদান গ্যাস ও ২১ রাউন্ড গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিশৃঙ্খলাকারীদের । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় দুপক্ষের ছাত্রদলের কর্মীরা ৩০ থেকে ৩৫ টি ককটেলের বিস্ফারণ ঘটায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নবগঠিত ছাত্রদলের কমিটিকে স্বাগত জানানো জন্য বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হয় ইয়াছিন গ্রুপের নেতা-কর্মীরা ।এ সময় সাক্কু গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অনবরত ককটেল ও গোলাগুলি শুরু হয়।
জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সার জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিন বারের প্রধাণমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নেত্রীর কারামুক্তির দাবিতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল মিছিল বের করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসলে তারা (কুসিক মেয়র গ্রুপ) গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ করে। দলের নেত্রী , দেশমাতা যখন কারাগারে তখন আমাদের সবাইকে একত্র থাকা উচিত ছিল ।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচী একত্রে পালন করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা এটা না করে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে। তারা বিএনপির কেউ না, বিএনপির লোক হতে পারে না। দলের ক্রান্তিলগ্নে যারা হামলা করতে পারে তারা আ’লীগেরই অংশ। তারা কোন বিএনপির কোন অংশ নয়। সারাদেশে যেখানে বিএনপির কোন লোক প্রশাসনের কারণে ভালভাবে কোন কর্মসূচী করতে পারে না, সেখানে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করা তাও আবার প্রশাসনের সহযোগিতায়, বুঝতেই পারছেন তারা বিএনপি না আ’লীগ করে। তিনি আরো বলেন, যাদেরকে নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি করা হয়েছে তারা সবাই মেধাবী ও যোগ্যতা সম্পন্ন।
মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পদবঞ্চিতরা মনের ক্ষোভে গতকাল (শনিবার) বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়েছিল। আজ ছাত্রদলের ব্যানারে অযোগ্য নেতৃবৃন্দরা মিছিল বের করে তালা ভাঙ্গতে আসে। তখন তাদের প্রতিরোধ করা হয়েছে,অযোগ্য নেতৃবৃন্দকে কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হবে না।
হামলাকারিরা বিএনপির নেতাকর্মী হতে পারে না -নিজাম উদ্দিন কায়সারের এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সব পদ যেহেতু তারাই পেয়েছে তারাই বিএনপি করে , আর আমরা কিছু না। দলের এ ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রদলের ব্যানারে কর্মসূচীটা আর কয়েকদিন পরে দিলে কি হতো ? পদবঞ্চিতরা এখন মনের ক্ষোভে আছে । তারা একটু শান্ত হলেই এ কর্মসূচীটা দিতে পারতো। কায়সারের মনে রাখা উচিত পদ বঞ্চিতদের কাছে এখন দল আর গুরুত্বপূর্ণ না। দল কিংবা কর্মসূচী এখানে কোন বড় বিষয় না। অযোগ্য ও আত্মীয়দের নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি করা হয়েছে। তাই অযোগ্যদের কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হবে না। অযোগ্যদের পাশাপাশি কুমিল্লায় নিজাম উদ্দিন কায়সারকেও প্রতিরোধ করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ হোসেন জানান, ছাত্রদলের কমিটির নিয়ে দুই পক্ষের অসন্তোসকে কেন্দ্র করে এ সংঘসের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সালাম মিয়া জানান, আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুটিপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অাইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি অবহিত করেন ।