কালিগঞ্জে চেয়ারম্যান হত্যার প্রধান আসামির লাশ গ্রহন করেনি পরিবার

10

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান, জেলা জাতীয় পাটির নেতা কেএম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য, কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবদুল জলিল গাইন (৪৫) গনপিটুনিতে নিহত হওয়ার পর তার লাশ পরিবারের কেউ গ্রহন করেনি। বিক্ষু্ব্ধ জনতার বাঁধার মুখে লাশ গ্রহন করতে কেউ রাজি হয়নি।
এদিকে, আব্দুল জলিল গাইন হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানার ওসি ( তদন্ত) মোহাম্মাদ রাজিব হোসেন বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে, যার মামলা নং-১০, তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। এই মামলায় ৫ থেকে ৭ হাজার অজ্ঞাতনামা এলাকাবাসিকে আসামী করা হয়েছে। অপরদিকে পুলিশের তদারকীতে রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কালিগঞ্জের মহৎপুর সরকারি খবর স্থানে তার লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত শনিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলে শতশত বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেয়। মুহুর্তেই কয়েক হাজার মানুষ তাকে গনপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। ঐরাতেই বিক্ষুব্ধ জনতা রাগে ক্ষোভে জলিল গাইনের আলিশান বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে।

জলিলের মা রমিছা অরফে ময়না বেগম জানান, তার ছেলে চেয়ারম্যান হত্যায় জড়িয়ে থাকলেও তার স্ত্রী মুক্তা পারভীন, বড় পুত্র মনিরুল ইসলাম (১৩), মেঝ পুত্র নয়ন ইসলাম (৯) ও দুই ববছরের কোলের শিশু সন্তানেরা তো নির্দোষ, তাদের থাকার আশ্রয়টুকুও ভেঙ্গে ফেলছে। আর যেন কোন ক্ষতি না করে সেদিকে পুলিশের দৃষ্টি কামনা করেন।

এদিকে, এই হত্যাকান্ডের পর পুলিশ শনিবার রাতে নিহত আব্দুল জলিলের লাশ উদ্ধার করে কালিগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। রোববার দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হত্যার প্রধান আসামি কৃষ্ণনগর ইউপি সদস্য, জাতীয় শ্রমিকলীগ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আবদুল জলিলকে শুক্রবার গাজিপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাকে নিয়ে আসা হয় সাতক্ষীরায়। তিনি আরও জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জলিলকে নিয়ে ঘটনাস্থল অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কৃষ্ণনগরে যাওয়া মাত্র হাজার হাজার লোক এসে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

তিনি জানান পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। ওসি আরও জানান চেয়ারম্যানকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল সেখানেই তাকে জনতা গনপিটুনি দিয়ে হত্যা করে।

শনিবার রাত ১২ টার দিকে নিহত আব্দুল জলিল মেম্বরের লাশ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়। রবিবার সকালে তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। রোববার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে লাশ আনা হয় কালিগঞ্জে। কিন্তু নিহত আব্দুল জলিলের পরিবারে কোন সদস্য বা অন্য কোন আত্মীয় স্বজন আব্দুল জলিলের লাশ গ্রহন করতে রাজি হয়নি। পরে কালিগঞ্জ সরকারি কবর স্থানে রোববার রাতে দাফন করা হবে।

তিনি বলেন, কবর খোড়ার কাজ চলছে। তবে আব্দুল জলিলের জানাজার নামাজ কেউ পড়তে রাজি হচ্ছে না। জানাজার নামাজ পড়ানোর মতো কোন মাওলানাকেও এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, পুলিশের কাছ থেকে লাশ ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মাদ রাজিব হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

এই মামলায় ৫ থেকে ৭ হাজার অজ্ঞাতনামা মানুষকে আসামী করা হয়েছে। এজহার নামীয় কোন আসামী নেই এই মামলায়। তিনি বলেন, আব্দুল জলিল এলাকার মানুষের উপর খুবই অত্যাচার, নির্যাতন করেছে। এজন্য তার ওপর সকলের ব্যাপক ঘৃনা। কৃষ্ণনগর এলাকার মানুষ ঘোষনা দিয়েছে আব্দুল জলিলের লাশ ওই এলাকায় ঢুকতে দেবে না। বিধায় লাশ সরকারি কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চেয়ারম্যান মোশারাফ হোসেনের বড় মেয়ে মামলার বাদী সাফিয়া পারভীনের নেতৃত্বে রবিবার সকাল ৯ টায় বালিয়াডাঙ্গা বাজারে প্রতিবাদ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করেন। বেলা ১১ টায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে মাইক্রো, ইজি বাইক, মটর সাইকেল ও ইঞ্জিন ভ্যানের বহর নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষীন করে এবং সাবেক সংসদ এইচ এম গোলাম রেজার বাসভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ এইচ এম গোলাম রেজা, কৃষ্ণনগর ইউপি সদস্য জবেদ আলী, আব্দুর রহমান মোল্যা, চেয়ারম্যানের বড় মেয়ে সাফিয়া পারভীন ও চেয়ারম্যানের মামা আব্দুল আজিজ গাইন প্রমুখ।

পরে সমাবেশ থেকে থানায় অফিসার ইনচার্জ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ষ্টাফদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিতরন করেন। একইভাবে রবিবার বিকাল ৫ টায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ এইচ এম গোলাম রেজা, কালিগঞ্জ সার্কেলের সিনিঃ সহকারি পুলিশ সুপার, থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান, ওসি ( তদন্ত) মোহাম্মাদ রাজিব হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী, সাফিয়া পারভীন প্রমুখ।