কলারোয়ায় উপজেলা আ.লীগের দুর্নীতি বিরোধী সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আওয়ামীলীগের দুর্নীতি বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিএম নজরুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতি সইবো না। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়া জিকেএমকে ফুটবল মাঠে উপজেলা আ.লীগ আয়োজিত বিশাল জনসমুদ্রে তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত জনসমুদ্রে বলেন, গেলো উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে আপনারা কেমন আছেন ?  সাধারণ জনতা তখন দু’হাত উচিয়ে জানান দেন যে, আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। লাল্টু বলেন,  আপনারা ভালো থাকার জন্যই বিগত উপজেলা নির্বাচনে ৭৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে আমাকে ৭১টি কেন্দ্রে প্রথম করিয়েছিলেন। আর মাত্র ৪টি কেন্দ্রে ১ম হয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। অবাধ ও নিরপেক্ষ সেই নির্বাচনে জনগণ আমাকে ৭৪ হাজার ও স্বপন ভাইকে ৩৪ হাজার ভোট দিয়েছিলো।

স্বপন সাহেব ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন কিন্তু জনগণ সেটা আর করতে দেবে না। দলটির সভাপতি স্বপনের নাম উচ্চারণ করে লাল্টু আরো বলেন, তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন চরম দুর্নীতি করে নিজের আখের গুছিয়েছেন। দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র ও স্বজনপ্রীতির কালোথাবায় উপজেলাকে গ্রাস করেছিলেন। নিজের শ্যালককে একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্ত্রীকে মহিলা আ.লীগের সভাপতি বানিয়েছেন। চাচাতো শ্যালককে প্রধান শিক্ষক বানানো পাশপাশি ভারপ্রাপ্ত মেয়র করেছেন। শুধু তাই নয়, সরকার যখন গুজবরোধে সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছে তখন আমাকে সেক্রেটারি পদ থেকে বহিষ্কারের গুজব রটিয়ে স্বপন তার চাচাতো শ্যালককে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি করে পরিচয় দিচ্ছেন। এদিকে দলীয় কাউন্সিলকে ঘিরে বিভিন্ন ইউনিয়নে চোরাই ও পকেট ওয়ার্ড কমিটি করে তিনি আরেক অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেছেন। তিনিও বলেন, দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতি সইবো না।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব বলেন, আজকে দুর্নীতি বিরোধী এই সমাবেশ স্বপন বিরোধী জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। খুনি মোশতাক ও দুর্নীতিবাজ স্বপনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। শেখ হাসিনার গাড়িবহর হামলা মামলার স্বাক্ষী স্বপন বিএনপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে ঘটনা ঘটেনি বলে স্বাক্ষী দিয়েছিলেন। তার সময়ে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি ও দুই নৈশ্যপ্রহরী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাই এই দুর্নীতিবাজ স্বপনকে কলারোয়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।

উপজেলা আ.লীগের সাবেক আহবায়ক সাজেদুর রহমান খাঁন চৌধুরী মজনু বলেন, কলারোয়ায় দুর্নীতির অপর নাম স্বপন। স্বপন ৪বার ভোট করে ২বার ভোট কেটে জয়ী হয়েছিলেন। আমি আহবায়ক থাকার সময়ে স্বপনকে ৫বছর বহিষ্কার করেছিলাম, আগে বুঝলে আজীবন বহিষ্কার করতাম।

মজনু চৌধুরী হুশিয়ারী উচ্চারণ করে আরো বলেন, ষড়যন্ত্র করে স্বপন কোন পকেট ওয়ার্ড কমিটি করলে সেই কমিটি পকেটেই থাকবে। এরপর থেকে কোন এলাকায় অনিয়ম করে পকেট কমিটি করতে গেলে তাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সম মোরশেদ আলী বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে সরাসরি কাজ করে স্বপন নৌকা প্রতীককে পরাজিত করেছিলেন। তিনি আমাদেরকে ফেলটু চেয়ারম্যান বলতেন, নিজেই হেরে বাছাধন আজ তুমি কোথায় ?

উপজেলা আ.লীগের সহ.সভাপতি আলহাজ্ব ডা.আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আ.লীগ নেতা অধ্যাপক এমএ কালাম, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমজাদ হোসেন, উপজলো পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ নাজনীন খুকু, আ.লীগ নেতা ভূট্টোলাল গাইন, আলহাজ্ব শেখ নজরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন সরদার, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান, শহীদ আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন বাবলু, কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মিঠু, পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, আলফাজ হোসেন ও ইবাদুল ইসলাম, পৌর আ.লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, আ.লীগ নেতা শেখ জাকির হোসেন, সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী, মশিয়ার রহমান বাবু, জাহাঙ্গীর কবির বাবলু, এনায়েত খান টুন্টু, আব্দুল আজিজ বিশ্বাস, আবু বক্কর সিদ্দিক লাভলু, যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, মোস্তফা জাহাঙ্গীর আলম শিমুল, কৃষকলীগ সভাপতি আমানুল্যাহ আমান, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের মেহেদি হাসান ফাহিম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ, শেখ সাগর হোসেন, ইলিয়াস হোসেন রাসেল, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি রুবেল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন সম্রাট, ইউপি সদস্য এরশাদ আলী, বিথী আক্তারসহ আ.লীগ এবং এর সহযোগী ও অংগ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আসাদুজ্জামান ফারুকী ও গীতা পাঠ করেন প্রনব ঘোষ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মল্লিক রবি ও যুবলীগ নেতা শফিউল আজম শফি।

error: লাল সবুজের কথা !!