করোনায় মোড়ের দোকানের চা কতটা নিরাপদ?

334

ইয়াছিন আলী: চায়ের কাপ মাত্র দশ থেকে বারোটা। আর চা খেতে আসেন একশ জনের অধিক। তবে একবারে নয়। সকাল থেকে রাত দশটা অবধি চলে এ চা পানের আড্ডা। এদের অধিকাংশই কেউ কারো পরিচিত নয়। আসছেন, বসে চা-পান-বিড়ি খাচ্ছেন। চলে যাচ্ছেন। রেখে যাচ্ছেন পানের পিক।

প্রতিবারই এককাপে নতুন নতুন মানুষের ঠোঁট মুখের ছোঁয়া। আর হাঁচি-কাশি একটু হলেই মানুষের আদা চা খাওয়ার ঝোঁক আসে। মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু এই করোনার দিনে গণসংযোগের গণহারে খাওয়া চায়ের দোকানগুলো কতটা নিরাপদ?

করোনায় যখন বিশ্ব তটস্থ তখন আমাদের অবস্থা কী? করোনা প্রতিরোধে জনসমাগম ঠেকাতে যখন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা, সিনেমা হল প্রভৃতি বন্ধ করে দেওয়া হলো। তখন আমরা বেশি করে বেড়ানোর জায়গাগুলোতে জমায়েত হচ্ছি। ছুটিকে উপভোগ করছি। এতে আমরা নিজেদেরকে নিজেরাই বিপদের দিকে ফেলে দিচ্ছি কি না ?

করোনা প্রতিরোধে বলা হচ্ছে- বারবার হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত ধুতে, মাছ-মাংস বেশি সময় নিয়ে রান্না করতে। হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করতে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে। কিন্তু আমরা যেন তার বিপরীত।

ধরুন পথের ধারে বা গলির মোড়ে চায়ের দোকান। আমরা একটু সময় পেলেই চায়ের চুমুক দিতে যাই। চায়ের দোকানের চাচা মিয়া বা ছেলেটা কোনো রকম চায়ের কাপ ধুয়েই চা দিচ্ছেন। আর আমরা সেটা সুরুৎ সুরুৎ চুমুকে পান করছি।

সেই সাথে নিজেরাই চায়ের দোকানে থাকা বিস্কুটের বয়াম থেকে বিস্কুট, টোস্ট, রুটি, কেক ইত্যাদি বের করে খাচ্ছি। এভাবে সবাই করছে। এই গণহারের খাবারগুলো কতটা নিরাপদ? যখন করোনার ভয়াবহতা মারাত্মক তখন কীভাবে জেনে শুনে আপনি মোড়ের দোকানের চা বিস্কুট খাবেন। একবার ভেবে দেখুন তো।

আসুন সচেতন হই। প্রয়োজনে নিজেই চা বানিয়ে পান করি। বাসায় বানিয়ে খাবার ব্যবস্থা করি। এখন সময় এসেছে গণপরিবহন, গণরুম, গণবাথরুম পরিহার করার। হাত ধোয়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলি। নিজে নিরাপদ থাকি। অপরকে নিরাপদ রাখি।