করোনাভাইরাস সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি সৌদিফেরত যুবকের মৃত্যু

40
ছবি: আনন্দবাজারপত্রিকা

অনলাইন সংস্করণ : পশ্চিমবঙ্গে নোভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি এক ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ফেরা ৩৩ বছর বয়সী ওই যুবক মর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

আনন্দবাজারপত্রিকার খবরে এমন তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের বলছে, ওই যুবকের মৃত্যুর কারণ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা কোনও রোগীর মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যটিতে এই প্রথম।

খবরে বলা হয়, মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম পলাশপাড়ার বাসিন্দা জিনারুন হক রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালে ভর্তি হন। বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তৃব্যরত চিকিৎসকরা।

জিনারুল গত পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসাবে কাজ করেন। শনিবার সকালেই তিনি সৌদি থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছান।

জিনারুলের স্বজন মোবিন শেখ বলেন, সকালে বিমান থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বাড়ি পৌঁছায় সে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জিনারুলের রক্তে শর্করা ছিল বেশি। সেই কারণেই চিকিৎসার জন্য তিনি ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

মোবিন বলেন, বাড়ি পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তখন তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তাতেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার সকালে তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়। যেহেতু সদ্য ওই ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন, তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়।

সৌদিতে নতুন করে আরো চারজনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ রেকর্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

রোববার সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় টুইটারে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, আক্রান্তরা ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে এসেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়েছে ইরান থেকে। ৭ মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে এ ভাইরাস সংক্রমণে ১৪৫ জন মারা গেছে। চীনের বাইরে ইতালির পর ইরানেই এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ইরানে নাগরিকদের ভ্রমণ বাতিল করেছে সৌদি আরব। কোনো সৌদি নাগরিক সেখানে ভ্রমণ করলেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের নাগরিকদের কাতার ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

রোববার দেশটির সরকার ব্যাপক বিস্তৃত করোনাভাইরাসের লড়াইয়ে পূর্বসতর্কতামূলকভাবে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

দেশগুলো হল— চীন, মিসর, ভারত, ইরান, ইরাক, লেবানন, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া ও থাইল্যান্ড।

আর ইতিমধ্যে ইতালিতে যাওয়া-আসার সব ফ্লাইট বাতিল করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। রোববার নতুন করে তিন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে উপসাগরীয় ছোট্ট দেশটি। সবমিলিয়ে কাতারে ১৫ কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ, স্কুল ব্ন্ধ, বড় ধরনের লোকসমাগম ও অনুষ্ঠান বাতিল, টয়লেট্রিজের মতো সামগ্রী, পানি ও মাস্ক কেনার হিড়িক এখন দেশে দেশে অভিন্ন চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।