কবি জসিমউদ্দীনের কবিতা ‘আসমানির মত পীরগঞ্জের সন্ধ্যা রানীর জীবনের করুন কাহিনী’

708

মোঃ নয়ন হোসাইন পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ কবি জসিমউদ্দীনের আসমানী কবিতার ভাষার মত করে বলতে হয় ‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, সন্ধ্যা রানীর ভাঙ্গা বাড়ি মিত্রবাটিতে যাও’ ‘বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলে গড়িয়ে পড়ে পানি’ ‘একটু খানি হাওয়া দিলেই ঘড় নড়বড় করে, তারি তলে সন্ধ্যা রানী থাকে বছর ভরে। রসুলপুরের আসমানী এখন আর নেই কিন্তু ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জ মিত্রবাটিতে সেই আসমানীর মতই জীবন নিয়ে বেঁচে আছে সন্ধ্যা রানী।

কবি জসিমউদ্দীন তার শ্বশুরবাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে যেমন আসমানীর খোঁজ পেয়ে কবিতা রচনা করেন তেমনি পীরগঞ্জের উদীয়মান সাংবাদিক সবুজ আহম্মেদ মিত্রবাটিতে বেড়াতে গিয়ে এই সন্ধ্যা রানীর সন্ধ্যান পেয়েছেন। তারপর তিনি এই সন্ধ্যারানীকে নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করায় পীরগঞ্জ প্রশাসনের নজরে আসে। এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ সন্ধ্যা রানীর জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সন্ধ্যা রানী দীর্ঘ দিন ধরে অন্যের জমিতে দোচালা ঘর করে থাকা অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুতে আঁধার নেমে আসে ২ সন্তানের জননী সন্ধ্যা রানীর জীবনে। তার একটি মেয়ে ও ছেলে। মেয়েটি আগেই বিয়ে হয়েছে তাই ১২ বছরের ছেলেটিকে নিয়ে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌরশহরের মিত্রবাটি মহল্লায় স্বামীর রেখে যাওয়া সেই দোচালা ঘরটিতেই পেয়েছিল মাথা গোঁজার ঠাঁই। কিন্তু সাম্প্রতিক ঝড়ে তার দোচালা ঘরটি ভেঙ্গে পরে যায়। ঘরের প্রায় প্রতিটি খুঁটিই মাটিথেকে উপরে উঠে এসেছে। তারপরেও আর কোনো ঠিকানা না থাকায় সন্তান সহ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঐ ঘরেই চরম কষ্টে পার করছেন তার জীবনের কঠিন মুহুর্ত্য গুলো। মৌলিক চাহিদার গুলোই যখন পূরণ হয় না তখন ছেলেকে স্কুলে পড়ানোর ভাবনা তার মাথায় নেই।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যা রানী নামে ঐ বিধবার থাকার খুব সমস্যা। তার এমন কঠিন দারিদ্র মুহুর্তেও তিনি ভিক্ষা না করে একটি হাসকিং মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। বর্তমানে মিল চাতাল এর ব্যবসা ভালো না হওয়ায় আগের মত কাজ নেই। ফলে বেশির ভাগ সময় ধার দেনা করে চলতে হয় তাকে। কোনো কোনো দিন সন্তান নিয়ে না খেয়েও কাটাতে হয় দিন। ঘর তৈরি করবে কি দিয়ে।

সন্ধ্যা রানীর সাথে কথা বলতে গেলে, বোবা কান্না বার বার তার দু’চোখে জ¦ল এনে কষ্টকে শিহরিত করে। তিনি বলেন, মানুষের জমির উপর থাকা ঘরটি ভেঙ্গে পরলেও খুব বেশি কষ্ট পাই নি। কেননা মাথা গুজার ঠাঁই তো ছিল। কিন্তু জমির মালিক ঐ জমিটি বিক্রি করবেন তাই আমাকে দ্রুত জায়গাটি ছাড়তে বলছেন। আমি এখন দু’চোখে আঁধার দেখছি। মাসুম সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো কি করবো উপরওয়ালাই ভালো জানেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যারানীর মত দারিদ্র এ ওয়ার্ডে আর কেউ নেই, পৌরসভা থেকে আমি যতদূর পারি তাকে সহযোগিতা করি। এবার তার বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করেছি।’ তার এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তাকে সহযোগিতা পাঠানোর জন্য তার প্রদান করা বিসস্থ পার্সোনাল বিকাশ নাম্বার- ০১৭৬১১৯২৩৫৪।