একজন মানবিক ইউএনও মীর আলিফ রেজা

269

মো. জাবের হোসেন : দেশে মরণঘাতী অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের শুরু থেকেই সংক্রমণ রোধে দিন-রাত অক্লান্তভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, এরপর ঘূর্ণিঝড় আম্পান সহ নানাবিধ টার্নিং সময়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে কাজ করে চলেছেন। সবার পরিচিত মুখ, সদালাপী ও মিষ্টিভাষী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি সবসময় জনগনের জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন। কি করোনাভাইরাস, কি ঘূর্ণিঝড় আম্পান সবখানেই তিনি সমান গতিতে নিজেকে চলমান রেখেছেন। নিজের কাজ থেকে কখনো তিনি বিন্দুমাত্র পিছপা হয়নি। আমার দেখা চোখে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ ও যোগ্য ইউএনও।

এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। ৩১ তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে। এরপর নিজ কর্মগুনে অতি অল্প সময়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়েছেন। তিনি আশাশুনিতে যোগদান করেন ২০১৮ সালে ৩১ অক্টোবরে। এর আগেও কর্মসূত্রে আশাশুনিতে বিগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের সাথে পরিচয় হয়েছিলো। তারাও নিজ নিজ কর্মগুনে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে আমার চোখে দেখা একজন শ্রেষ্ঠতম ও মানবিক ইউএনও হলেন মীর আলিফ রেজা।

গতকাল বুধবার ইউএনও’র সাথে একটা মিটিং ছিলো। উপজেলায় গিয়ে দেখি একজন ভিক্ষুক তার সাথে দেখা করবে সেজন্য গিয়েছেন। মিটিং শেষে উপজেলার নিচ তলার মিটিং রুম থেকে যখন ইউএনও’র অফিস রুমে একসাথে ইউএনও সহ কয়েকজন ঢুকলাম তখন ইউএনও মীর আলিফ রেজা দেখলো তার বসার টেবিলে কোনো একটা কোম্পানী নতুন বছরের ক্যালেন্ডার এবং ডায়েরী রেখে গেছেন। সেটা হাতে নিয়ে দেখার পর উপস্থিত তার পিয়নকে বললেন আপনার কি কোনো সন্তান স্কুলে লেখা-পড়া করেন? পিয়ন বললো জ্বি স্যার করেন, তখন ইউএনও বললেন তাহলে এটা নিন, নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তাকে দিবেন।

শুধু এরকম যে তিনি করেন তা নয়, তিনি সবসময় এরকম অজস্র কাজ করে চলেছেন দিন-রাত। মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, শিক্ষার্থীসহ অসহায় মানুষের বিপদের বন্ধু তিনি। কর্মস্থলে অসংখ্য গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দক্ষতা ও সুনামের সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। খবরের কাগজ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো অসহায় মানুষের খবর আসলে ছুঁটে গিয়েছেন তাদের বাড়ি বা ডেকে এনেছেন তার কার্যালয়ে, সাহায্য করেছেন নিজের সাধ্যমত। আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়নে দুরারোগ্য ব্যাধি কান্সারে আক্রান্ত গৃহবধূ নাছিমাকে দেখতে যান ইউএনও। আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ভার নির্বাহ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এরকম অসংখ্য মানবিক কাজে দিন-রাত তিনি ছুঁটে চলেছেন।

সম্প্রতি তিনি বদলির জন্য চিঠি পেয়েছেন। তার বদলির খবর শুনে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে এবং বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যেনো রক্তখরণ শুরু হয়। এমনকি মিটিং চলাকালীন সময়ে একজন উঠে বলেন, স্যার আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না। প্রয়োজনে আপনার জন্য আমরা দরখাস্ত দেবো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাতে আপনি আমাদের এখান থেকে না যান। সেসময় প্রায় সকলের চোখে জল চলে আসে।

“মানুষ মানুষের জন্য” কথাটি সত্যি হয় এরকম কিছু মানুষের জন্য। তিনি আশাশুনিতে সকলের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি যেখানেই থাকবেন না কেনো সবসময় যেনো ভালো থাকেন, আর সবসময়ের জন্য যেনো এরকম মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখে কাজ করে যেতে পারেন সে শুভকামনা রইলো।