ইউপি নির্বাচন: ৭০ শতাংশের বেশি ভোট ৩৬ ইউপিতে

96

প্রথম ধাপের ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সোমবার চেয়ারম্যান পদে ১৭৬টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৩৬টিতে ৭০ থেকে ৮৩ (৮২ দশমিক ৭৫) শতাংশ ভোট পড়েছে। আর ১২টিতে পড়েছে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। একই দিনে অনুষ্ঠিত এসব ইউপি নির্বাচনে ভোটের এ ব্যবধান পাওয়া গেছে।

এ নির্বাচনে গড়ে ভোট পড়েছে ৬৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) তুলনায় কাগজের ব্যালটে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ভোট পড়ার হার কিছুটা বেশি রয়েছে। প্রথম ধাপের ১৭৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, এলাকাভিত্তিক ভোট পড়ার হার ভিন্ন হতে পারে। দু-একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ছিল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দু-কটি জায়গায় অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে এসেছে। তবে ওই ঘটনায় ভোটের এত হেরফের হওয়ার কথা নয়। যা ভোট পড়েছে ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ২০৪টিতে ভোটের আয়োজন করলেও ২৮টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ওই ২৮টি বাদে ১৭৬টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ১২০টিতে জয় পান। সবমিলিয়ে প্রথম ধাপে ১৪৮টিতে দলটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪৯, জাতীয় পার্টি ৩, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৩ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টিতে চেয়ারম্যান হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট নেওয়া ১৮টি ইউপিতে গড়ে ৬৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। কাগজের ব্যালটে নির্বাচন হওয়ায় ১৫৮ ইউপিতে ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সবমিলিয়ে গড়ে ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ২০১৬ সালের তুলনায় ভোট কম পড়েছে। কমেছে সহিংসতাও। ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট পড়ার হার ছিল ৭৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। প্রথম ধাপের নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যান ২২ জন। এবারের নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ২০৪টি ইউপি নির্বাচনে মারা গেছেন মাত্র তিনজন। ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

ফলাফলে আরও দেখা গেছে, প্রথম ধাপের এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এনামুল হক ২ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একইভাবে মাদারীপুরের শিবচর ইউপিতে ৮২ দশমিক ৭১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবুল ফকির ১ হাজার ৫৫৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ঝালকাঠীর সদর উপজেলার বিনয়কাঠী ইউনিয়নে। ইভিএমে অনুষ্ঠিত এ ইউনিয়ন পরিষদে ৪৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১৭ হাজার ৪৫ ভোটের এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এজেএম মইনুদ্দিন ৭ হাজার ২৩১ ভোট পেয়েছে চেয়ারম্যান নির্বাচিন হন।

জানা গেছে, ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৬ ইউপিতে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে ২৪টিতে, ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে ১০টি ও ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে ২টিতে। অপরদিকে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়েছে ৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদে। ৪৯ থেকে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে ১২টিতে এবং ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৭টিতে। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ৬১ থেকে ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ফলাফলে দেখা গেছে, তিনটি ইউপিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন-বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের এসএম কাইয়ুম খান, একই জেলার চরকালেখা ইউনিয়নের মিরাজুল ইসলাম ও বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ইউনিয়নে সিদ্দিকুর রহমান।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় তিনটিতে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ খান জয়ী হয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়ন থেকে। এ নির্বাচনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১২টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।