আসমাউল বাহিনীর হাত থেকে রাহুমুক্ত হতে চাই আশাশুনি উপজেলাবাসী

84

ডেস্ক রিপোর্ট : রাহুমুক্ত হতে চাই আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউল বাহিনীর হাত থেকে সাধারণ জনগন। আশাশুনি জুড়ে রয়েছে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ।

নিজস্ব ক্যাডার দ্বার নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো আশাশুনি।জিম্মি করে ফেলেছে সাধারণ জনগনকে। ব্যবসা করতে গেলে আসমাউলকে চাঁদা দিতে হবে,চাকরি করতে চাই তাকে টাকা দিতে হবে,দলিল লেখকদেরকে আসমাউলের টাকা দিতে হবে,কেউ বাইরে থেকে টেন্ডারে সরকারি কোনো কাজে গেলে আসমাউলকে টাকা দিতে হবে।প্রতিটি ক্ষেত্রেই আসমাউলকে টাকা দিতে হবে।টাকা দিতে পারলে চাকরি,ব্যবসা,সব কাজ চলবে। আর টাকা দিতে না পারলে হয়তো বন্ধ করে দিতে হবে,না হয় আসমাউল বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা নেই। রাজি না হলে প্রকাশ্যে মেরে রক্তাক্ত,অথবা রাতে গোপনে ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে আসমাউল বাহিনী।

নিরীহ মানুষগুলো আসমাউল বাহিনীর তান্ডবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। পুরো আশাশুনি উপজেলা জুড়ে এখন একটু স্বস্তিতে থাকলেও সম্প্রতি এক এনজিওকর্মীর দায়ের করা মামলায় আসমাউল বাহিনী জামিনে আসার পর আবারো ভীতসন্ত্রস্ত। ৩০ ডিসেম্বর আসমাউলের নামে মামলা দায়েরের পর থেকে আসমাউল বাহিনী পলাতক ছিলো। সেজন্য সাধারণ জনগন তার যাতে এবার সর্বোচ্চ শাস্তি হয় তারজন্য দোয়া করছে। আসমাউল বাহিনীর তান্ডবের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে কেউ কেউ আবার মিষ্টিও খেয়েছিলো আসমাউলের নামে মামলা হওয়ায় এবং পলাতক থাকায়। একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে,আসমাউল ও তার দোষরদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করছেন।

আসমাউলের বিরুদ্ধে আশাশুনি উপজেলার নিরিহ সাধারণ জনগন বিনা দোষে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে।

সাংবাদিকদের হাতে সম্প্রতি বেশকিছু তথ্য চলে এসেছে। আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাদকাসক্ত আসমাউল হুসাইনের বিরুদ্ধে সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আশাশুনির গোবিন্দ মন্ডল (ছদ্মনাম) জানান, সময়ে অসময়ে আসমাউল হুসাইন কর্তৃক নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানির স্বীকার হচ্ছি। আসমাউল বাহিনী বিভিন্ন সময়ে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে আমাকে।তাদের অবৈধ অর্থের দাবী পূরণে অর্থ দন্ডের স্বীকার হয়েছি। আসমাউল হুসাইন আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরেই স্থানীয় মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তোলে।

আসমাউলের হাত থেকে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকও বাদ পড়েনি। শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতেও আসমাউলের বিবেকে বাঁধেনি। আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের তারাপদ মন্ডলের পুত্র ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মলয় কৃঞ্চ মন্ডলকে উপজেলা পরিষদে আটকে রেখে তার স্ত্রীর কাছে মোবাইলে কল করে আসমাউলসহ তার বাহিনী মুক্তিপণ দাবি করে। দিতে অস্বীকার জানালে মলয়কে শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে তার স্ত্রী ৫০ হাজার টাকা দিলে মলয় কৃঞ্চ মন্ডলকে আসমাউল বাহিনী ছেড়ে দেয়।

তবে এতকিছুর পরও কেউ মুখ খোলার সাহয় পায়না তার একটাই কারন আসমাউল বাহিনীর নির্যাতন। তার নির্যাতের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না। তাকে ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তারজন্য এলাকার সাধারণ জনগনের প্রত্যাশা।