আশাশুনি হাসপাতালের সেবার মান এগিয়ে নিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার

176
ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার

এম এম নুর আলম, আশাশুনি : আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান অক্লান্ত পরিশ্রম করে আগের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার। এ বছরের ২৫শে জানুয়ারী তিনি আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত আশাশুনিবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। জানাগেছে, তিনি যোগদান করেই প্রথমে হাসপাতালকে দৃষ্টিনন্দন করতে হাসপাতালের সামনে ফুল ও ফলের বাগান তৈরী করেন।

হাসপাতাল হলরুমে মুজিববর্ষ উদযাপনসহ সকল জাতীয় দিবস গুরুত্ব সহকারে পালন করে যাচ্ছেন। তিনি আশাশুনিবাসীর সেবার ব্রত নিয়ে করোনা ও আম্পান এর সময় সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে ক্যাম্প করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। এছাড়াও তিনি হাসপাতালে স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্ণার, স্বাস্থ্য বার্তা প্রচারের জন্য টিভি স্থাপন, হাসপাতালের হলরুম সুসজ্জিতকরণ করেছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ উদ্ধর্তনদের সাথে কথা বলে হাসপাতাল এরিয়ায় অন্ধকার দূরীকরণের লক্ষে স্ট্রীট লাইট স্থাপন, সঠিক নিরাপত্তা ও দ্বায়িত্বরতদের তদারকির জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন।

সিজারিয়ান (অপারেশন) চালু, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্সরেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। করোনা মোকাবেলায় করোনা টিম শক্তিশালীকরণ ও প্রচার টিম গঠন এবং তাদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করেছেন। নিজেই করোনা রোগীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া, পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা এবং করোনামুক্ত হলে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নিজেই সরোজমিনে গিয়ে মনিটরিং করা, হাসপাতালের স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্ণার ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বার্তা প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন।

পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদারকরণ, তামাকজাত দ্রব্য সংক্রান্ত ও ভেজাল বিরোধী অভিযান এবং পরিবেশ দূষণ তদারকী কওে যাচ্ছেন। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় নিজেই গিয়ে মেডিকেল টিম গঠন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করেছেন। হাসপাতালে আগত রোগীদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার লক্ষে বিভিন্ন এনজিও এর মাধ্যমে পানির ট্যাংকি স্থাপন করেছেন। অপুষ্ট বাচ্চাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া ও হাসপাতালের পুষ্টি কর্ণারের কার্যক্রম শক্তিশালী করেছেন। কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেন ইউনিট এবং নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করেছেন।

হাসপাতালের পরিষ্কার পরিছন্নতা নিশ্চিতকরণ, প্রবেশ পথে অত্যাধুনিক হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ হাসপাতাল ও মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম গতিশীল করতে নিরালস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। আশাশুনি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে এখানে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এখন নিজ উপজেলার হাসপাতাল থেকে সেবা কোন প্রকার হয়রানি ছাড়াই পেয়ে থাকি।

এ সময় আগত অনেক রোগী হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ স্টাফদের সেবায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার বলেন, চিকিৎসক হওয়ার শপথ যখন নিয়েছি তখন মানুষের সেবা দিয়েই যাব। আমি যোগদানের পর থেকে আজ পর্যন্ত আশাশুনিবাসী জরুরি প্রয়োজনে আমাকে পাশে পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাবেন। চিকিৎসকদের মানুষের পাশে থাকা খুব দরকার।

আমরা যদি এখন পিছিয়ে যাই তাহলে আমরা আমাদের শপথ পূরণ করতে পারব না। আমরা যেহেতু ডাক্তার তাই আমাদের জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কাজ করে যাব। তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবেলায় বিদেশফেরত, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ফেরত লোকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে ছুটেছি গ্রামে গ্রামে।

করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই সব ধরনের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছি। সীমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ফেরত দেয়নি কোনো রোগীকে। এসময় তিনি হাসপাতালকে আরও সুন্দরভাবে সাজাতে আশাশুনিবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।