আশাশুনির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে গাইড বই বাণিজ্যে

7
গাইড বই
গাইড বই

এম এম নুর আলম, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইড বই বাণিজ্যের উৎসব শুরু হয়েছে। উপজেলার হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে নতুন বছরের শুরুতেই গাইড বই উৎসবে মেতে উঠেছে শিক্ষক ও গাইড বই প্রকাশনী কোম্পানীগুলো। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বছরের শুরুতে বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার সঙ্গে অলিখিত চুক্তি করছে গাইড কোম্পানিগুলো।

স্কুল ভেদে ২ হাজার থেকে ৫০ হাজার বা তার অধিক টাকার চুক্তি হয়েছে অসাধু শিক্ষকদের সঙ্গে। প্রতি বছরের মত এবারও জানুয়ারী মাসের শুরুতে উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে মর্মে একটি সুত্র দাবী করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান চুক্তির অর্ধেক টাকা অগ্রিম নিয়েছে। এ ঘটনাটি স্থানীয় অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলেছে রিতিমত।

তারা জানান, জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন বইয়ের সঙ্গে নিষিদ্ধ গাইড বইও শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, এ উপজেলায় একটি শক্তিশালী গাইড বই বিক্রির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে-বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও বই ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে উপজেলার অধিকাংশ লাইব্রেরী গাইড বইয়ে সয়লাব হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, শুধুমাত্র অতিরিক্ত কিছু অর্থ উপার্জনের জন্য আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। স্কুলে ঠিকমত না পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীল করা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপরে জানার জন্য আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজার অফিসিয়াল নম্বরে ফোন দিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া আক্তার ফোন রিসিভ করে জানান, আমরা গাইড বই বানিজ্যের বিষয়ে সব সময় সতর্ক অবস্থানে আছি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক স্যারের নিদের্শে এবিষয়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ এধরনের কর্মকান্ডে জড়ালে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।