সর্বশেষ সংবাদ

আবরার হত্যাকান্ড : ছাত্রলীগের দায় কতটুক?

মো. আসিফ শাহবাজ খান : পর্যালোচনা – অতি-উৎসাহী,লেজুর বৃত্তিক মনোভাবাপন্ন, আক্রমনাত্মক চিন্তাধারা ও বিরোধী মত সহ্য করতে না পারা কিছু বিপথগামী নামধারী ও পদায়ন প্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতা আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে৷

এবার মূল কথায় আসি,আমি মোঃ আসিফ শাহবাজ খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক(১), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সাতক্ষীরা জেলা শাখা। প্রথমেই আমি ব্যক্তিগতভাবে, আবরার হত্যার বিচার চাই এবং আমার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান দুই কর্ণধারও আবরার হত্যার বিচার চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বহিষ্কার করেছেন।

আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সাজায় তাদের দন্ডিত করা হয়েছে। তাছাড়া ঢালাওভাবে বুয়েট ছাত্রলীগ, এমন কি বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে অভিযুক্ত করবার নূন্যতম যৌক্তিক অধিকার কারও নেই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি সাংগঠনিক ফোরাম আছে।বুয়েট ছাত্রলীগেরও একটি ফোরাম বা কমিটি আছে। এই ফোরমে ভিত্তিক আলোচনায় যদি কোন কর্ম পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং তা বাস্তবায়িত হয় তবেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বা বুয়েট ছাত্রলীগের কৃতকর্ম ৷এবং বাইরে কোন দায় ছাত্রলীগের নয়।

ছাত্রলীগের কোন কর্মী বা নেতা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার বাইরে যদি কোন অপকর্মে লিপ্ত থাকে,তবে সেই দায় অবশ্যই উক্ত ব্যক্তিকে এককভাবেই নিতে হবে।মনে রাখতে হবে ব্যক্তির দায় সংগঠন নেয় না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিলো কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্য। তার জন্য যেমন সমগ্র সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করা হয়নি। তেমনি কতিপয় বিপথগামী ছাত্রলীগ নেতার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ি করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে জাতি যেমন দায়মুক্তি পেয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক সাজা বহিষ্কারের মাধ্যমে ছাত্রলীগও দায় মুক্ত ৷

এবার একটু আত্ম সমালোচনা করতে চাই। আবরার কে যারা হত্যা করেছে, তারা ছাত্রলীগের একথা শতভাগ সত্য, তবে তারা কারা ??? দল ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের পদ পদবী পাবার প্রক্রিয়ায় একটি আমূল পরিবর্তন এসেছে। ত্যাগ, পরিশ্রম, সাংগঠনিক দক্ষতার পরিবর্তে, সর্বোচ্চ নেতাদেরকে তৈলমর্দন করতে পারা টাই এখন প্রধান যোগ্যতা।

আবরার হত্যার পেছনে পেছনে প্রধান কারন অতিউৎসাহ ও বিরোধী মত সহ্য করতে না পারা। বর্তমান ছাত্রলীগে যারা সহমত ভাই, সেরা ভাই,অস্থির ভাই স্বপ্নে দেখছি ভাই, এরা সবাই অতি উৎসাহি এবং এরাই অনুপ্রবেশ কারী, মনে রাখতে হবে অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ , সময় এসেছে এদের কে চিহ্নিত করবার।

রাজনীতি ও গণপ্রজাতন্ত্রের সংজ্ঞায় প্রধান সৌন্দর্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ও পারস্পরিক সহাবস্থান , নিশ্চই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সে নীতিতেই বিশ্বাসী ৷

error: লাল সবুজের কথা !!