সর্বশেষ সংবাদ

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বাংলার খেজুর পাটি

মোঃ জাবের হোসেন : এক সময় গ্রাম-গঞ্জে খেজুর পাটির কদর ছিলো।খেজুর পাটি তৈরি আর ক্রয় বিক্রয়ে ব্যস্থ থাকতো বছরের বিশেষত একটা সময়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় শীতল পাটি, বিভিন্ন ধরণের চট ও কার্পেট এবং পলিথিনের তৈরি হরেক রকমের উপকরণ সহ আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই খেজুর পাটি। তবে আজও শীতের সময় এখনো কিছু মানুষ ঐতিহ্যবাহী খেজুর পাটি তৈরি ও ব্যবহারকে নিজস্ব সংস্কৃতি হিসেবে ধরে রেখেছে।

বিভিন্ন তথ্য মাধ্যমে জানা যায়, ষড়ঋতু অর্থাৎ ঋতু বৈচিত্রের এক অপরুপ নিদর্শন বাংলাদেশ। এক এক ঋতুতে প্রকৃতি সাজে অপরূপ রুপে এবং মানুষও ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন কর্মব্যস্ততায়। পৌষ ও মাঘ এই দু’মাস নিয়ে শীতকাল। অর্থাৎ এ সময় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ এবং গাছের পাতা দিয়ে তৈরি খেজুর পাটির প্রচলন সেই প্রাচীনকাল থেকে বাংলার গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যবহার লক্ষণীয়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় শীতল পাটি, চট ও কার্পেট এবং পলিথিনের তৈরি জিনিসের ব্যবহার এতটায় বৃদ্ধি পেয়েছে যে সমগ্র গ্রাম বাংলার মানুষ দিন দিন খেজুর পাটির ব্যবহার এবং কদর ভুলে যেতে বসেছে।

তবে এখন আর পূর্বের মত শীতের সময় খুব বেশি খেজুর পাটি তৈরি করতে দেখা যায় না বললেও ভুল হয় না। এক সময় বিশেষত শীতে খেজুর পাটি তৈরি ও সাধারণ মানুষ ঘরে ঘরে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে খেজুর পাটি ব্যবহার করতো। বিশেষ করে কৃষাণ বধূরা এসময় খেজুর পাতা সংগ্রহ করে বিশেষভাবে তৈরি করতো এই।

তাতে কৃষকের উৎপাদিত ফসল ধান, সরিষা, গম সহ নানাবিধ ফসল রোদে শুকানোর কাজে, কখনো কেউ ছোট ছোট পাটি তৈরি করে বসা ও রাতে ঘুমানোর কাজে ব্যবহার সহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হত এ পাটি। এছাড়াও গ্রামের হত দরিদ্র কিছু গৃহবধূরা খেজুর পাটি তৈরি ও বিক্রয় করে স্বামীর সংসারে বাড়তি আয়ের একটি উৎস সৃষ্টি করতো।

বিভিন্ন মহল আজ ধারণা করছেন ঐতিহ্যবাহী খেজুর পাটি তৈরি ও কদর দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা জানায় শীতল পাটি, নল পাটি, চট ও কার্পেট, পলিথিনের তৈরি হরেক রকমের উপকরণ ব্যবহার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, এখন অনেকেই খেজুর পাটির নাম ভুলতে বসেছে এবং এগুলো আধুনিক জিনিসগুলো সহজে পাওয়া যায়। তাছাড়া প্রতিবছর বন্যার কারণে খেজুর গাছ অনেক মরে যায়, ভাল খেজুর গাছ এবং ভাটায় খেজুর গাছের চাহিদা থাকায় খেজুর গাছ কমতে বসেছে।যার কারনে খেজুর পাতা পাওয়াটা বেশ দুরুহ হয়ে পড়েছে।

শুধু খেজুর পাতার তৈরি পাটি নয়,আধুনিকতার কারনে গ্রাম থেকে অনেক জিনিসই হারিয়ে যেতে বসেছে।কোনো কোনোটি ইতিমধ্যে হারিয়েও গেছে। তাছাড়া বাহিরের দেশের সংস্কৃতি আমরা যেভাবে গ্রহণ করছি তাতে করে একসময় নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাবে। আধুনিকতা যত দিন যাবে তত বাড়বে,আর তার সাথে হারিয়ে যাবে আমাদের একসময়ের ঐতিহ্যগুলো।

একসময়ে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্যগুলো রুপকথার গল্পের মত মনে হবে।তাদের বললে তারা এগুলো অসম্ভব মনে করবে।এভাবে যদি আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যায় তাহলে আমাদের নিজেদের বলে কিছু থাকবেন।তাই আমাদের সকলের উচিত আমাদের ঐতিহ্যগুলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পরিচিত করিয়ে ঐতিহ্যগুলো বাঁচিয়ে রাখা।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক,লাল সবুজের কথা

error: লাল সবুজের কথা !!