অবশেষে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউল কারাগারে

521
ফেন্সিডিলের বোতল হাতে ছাত্রলীগ নামধারী সভাপতি আসমাউল হুসাইন।

নিজস্ব প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউল হুসাইনকে চাঁদাবাজি মামলায় জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। রবিবার (১৫ মার্চ) সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত – ৮ এর আশাশুনি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব রায় এ রায় প্রদান করেন। দুই পক্ষের আইনজীবির যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের ভিত্তিতে এবং বাদির মামলার আইনজীবিদের প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত এ রায় প্রদান করেন।

চাঁদাবাজি মামলায় অপর আসামীদেরকে জামিন বহাল রেখে মামলার ১ নং আসামী বহু অপকর্মের মূল হোতা আশাশুনি সদরের স্থায়ী বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম (রাজমিস্ত্রি) -এর ছেলে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউল হুসাইন (৩০) কে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

জামিনে থাকা অন্য আসামীরা হলেন, আশাশুনি সদরের হারান সরদারের ছেলে সেলিম রেজা (২৮), ছট্টুল সরদারের ছেলে রানা ওরফে গুটি রানা (২৯), হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল বারী সরদারের ছেলে জয়নাল (২৭), মো. রফিকুল ইসলাম (রাজমিস্ত্রি) ছেলে আল-আমিন হোসেন।

উল্লেখ্য বাদি মো. জাবের হোসেন উন্নয়ন এনজিওর আশাশুনি অফিস শেষে বাসায় যাওয়ার পথে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ রাত অনুমানিক ৯ টার সময় আশাশুনি মাদারদীঘি নামক স্থানে পাথেও ট্রেনিং সেন্টারের পাশে পৌঁছালে আশাশুনি সদরের রফিকুল ইসলামের ছেলে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ছাত্রলীগ সভাপতি আসমাউল ও তার বাহিনী বাদির কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার কারণ জিজ্ঞাসা করা মাত্রই সেলিম রেজা বাদি মো. জাবের হোসেনকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর জোরপূর্বক একটি লাল রঙের মটরসাইকেলে বসিয়ে আশাশুনি হাফিজিয়া মাদ্রাসার পাশে মরহুম সরদার মুজিবুর রহমানের প্রাচীরের মধ্যে নিয়ে আবারও এক লাখ টাকা দাবী করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা বেদম মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে মোবাইলে কল করে বাদি মো. জাবের হোসেন তার সহকর্মী তানভীর রেজাকে সেখানে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে ওই দিন রাত সাড়ে ১০ টার সময় উক্ত স্থানে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। সহকর্মী তানভীর জাবেরের হাতে উক্ত টাকা দেওয়ার সাথে সাথেই চাঁদাবাজ আসমাউল হুসাইন তার হাত থেকে উক্ত ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেই এবং তানভীরকেও সেখানে আটকে রাখে।

বাকি ৮০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে মো. জাবের হোসেন তার বিকাশ নম্বর (০১৭১২৪০৬২১৩) এবং অন্য একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বর থেকে তাদের দুটি নম্বরে (০১৭৪৫০০৬৮৫৮ ও ০১৭১৩৫৩৭০১) আরো ২৫ হাজার টাকাসহ মোট ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করে। এরপর তারা জোরপূর্বক মো. জাবের হোসেনের কাছ থেকে ৩’শত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং দাবিকৃত বাকি টাকার চেক নেওয়ার জন্য জয়নালসহ তারা বাদি মো. জাবের হোসেন ও সহকর্মী তানভীরকে বাদির ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।

খবরটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এরপর সেখানে স্থানীয়রা পৌঁছালে জয়নাল সহ তারা চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে থানা পুলিও উপস্থিত হয় বাদির বাড়িতে। পরে স্থানীয়রা বাদিকে উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরদিন আশাশুনি থানায় আসমাউল হুসাইন (৩০), সেলিম রেজা (২৮), রানা ওরফে গুটি রানা (২৯), জয়নাল (২৭), জেনিথ (২৬), আল-আমিন হোসেনসহ (২৭) অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করে। যা সাতক্ষীরার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বাদি মো. জাবের হোসেন গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউলের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন।

সূত্রে আরো জানা যায়, আশাশুনিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে আসমাউল হুসাইন। তার বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস থেকে চাঁদা আদায়, অপহরণ, নারী নির্যাতন,পকেট কমিটি করে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

বাদি মো. জাবের হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, আজ (১৫ মার্চ) যখন আদালত প্রাঙ্গনের বারন্দায় ছিলাম তখন আসামীরা আমাকে প্রকাশ্যে মৃত্যুর হুমকি দেয়। আসামীরা আমাকে বলেন, এ তো আর মার্ডার কেচের মামলা না যে ফাঁশি হবে। চাঁদাবাজির মামলায় কি আর হবে? আসামীরা সেসময় বাদি মো. জাবের হোসেনকে বলেন, তুই মামলা করে পার পেয়ে যাবি আমাদের বিরুদ্ধে তা হবেনা। তোকে দেখে নেবো, জীবনে শেষ করে ফেলবো ইত্যাদি।

এদিকে ছাত্রলীগ নামধারি উপজেলা সভাপতি আসমাউল হুসাইনের জামিন বাতিল করে জেলহাজতে প্রেরণ করায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। কারন দীর্ঘদিন ধরে আসমাউল বাহিনীর তাণ্ডবে প্রকাশ্যে কেউ ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়না আশাশুনিতে। মামলার অন্য আসামীরা যাতে পরবর্তী দিনে জামিন না পায় সেটা এখন অনেকের প্রত্যাশা।